দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাত্র ১৪ দিন আগে বাবা হয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল হোসেন (২৫)। সৌদি আরবে বসে ভিডিও কলে নবজাতক মেয়ের মুখ দেখতেন তিনি। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। সৌদি আরবে একটি কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন রুবেল। মেয়েকে একবারও কোলে নেওয়া হয়নি তার।
রুবেল হোসেন গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। প্রায় নয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে কাজ করে পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য অর্থ পাঠাতেন। প্রায় আড়াই বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেন। পরে ছয় মাসের ছুটিতে দেশে এসে আবার সৌদি আরবে চলে যান। চার মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাঁর ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান আয়েশা জান্নাতি।
স্বজনেরা জানান, মেয়ের জন্মের খবর পেয়ে রুবেল খুব খুশি হয়েছিলেন। নিয়মিত ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন। দ্রুত দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেওয়ার কথা বলতেন তিনি।
রুবেলের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, মেয়েটা জন্মের পর রুবেল খুব খুশি ছিল। ভিডিও কলে মেয়েকে দেখত আর বলত, দ্রুত দেশে এসে মেয়েকে কোলে নেবে। কিন্তু সেই সুযোগ আর পেল না। এখন আমার ছেলের মেয়েটা বড় হবে বাবাকে ছাড়াই।
রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন বলে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ১৩ জন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রুবেল ছাড়াও আত্রাই উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের মো. জালাল, ডুবাই গ্রামের মো. সুমন হোসেন, মো. হাসিবুল হাসান শুভ, গন্ডগোহালী গ্রামের মো. মোহন প্রামাণিক, মো. সুমুন প্রামাণিক, মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক, উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ শেখ, মাদবপুর গ্রামের মো. মজিদুল ইসলাম, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা, মধ্যেবোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ এবং খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম রয়েছেন।
রুবেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গন্ডগোহালী গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। মাত্র ১৪ দিন আগে যে ঘরে নবজাতকের আগমনে আনন্দের বন্যা বইছিল, সেখানে এখন চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রায় নয় বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন রুবেল। স্ত্রী ও নবজাতক মেয়েকে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন। দেশে ফিরে মেয়েকে কোলে নেওয়ার সেই স্বপ্ন অবশ্য পূরণ হলো না। শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে তাকে।
যে আই